Coming us...

Sun in our kundali

সূর্য—তোমার অন্তরে কে বসে আছে… রাজা না ভিখারি? সূর্য প্রতিদিন সকালে ওঠে। কিন্তু তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছো… কী হবে যদি সূর্য একদিন তার নিজের আলো নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করে? সে আকাশে থেকে যাবে… কিন্তু পৃথিবী অন্ধকারে ডুবে যাবে। মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। যখন একজন মানুষ নিজের উপর বিশ্বাস হারায়, তখন বাইরে থেকে তার জীবন চলতে থাকলেও, ভেতর থেকে তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করে। সম্ভবত এই কারণেই বৈদিক ঋষিরা সূর্যকে শুধু একটি গ্রহ বলেননি। তাঁরা একে আত্মার কেন্দ্র বলেছেন। জ্যোতিষশাস্ত্রের ভাষায়, সূর্য হলো পিতা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, সূর্য হলো তোমার আত্মা—তোমার প্রকৃত সত্তা। সেই ব্যক্তি যাকে পৃথিবী কখনো দেখে না। তোমার সবচেয়ে বড় লড়াই পৃথিবীর সাথে নয়… বরং তোমার নিজের সূর্যের সাথে। মানুষ মনে করে তাদের শত্রু অন্য কেউ। কিন্তু না। সবচেয়ে বড় লড়াইটা হলো সেই অন্তরের কণ্ঠস্বরের সাথে, যা প্রতিটি ব্যর্থতার পর বলে— "তুমি যোগ্য নও..." এই মুহূর্তেই সূর্য দুর্বল হতে শুরু করে। আর যখন অন্তরের সূর্য দুর্বল হয়ে পড়ে... মানুষ অন্যের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে বাঁচতে শুরু করে। তখন সে সম্মান অর্জন করে না... সে তা দাবি করে। সে ভালোবাসে না... সে অনুমোদনের জন্য ভিক্ষা করে। সে সিদ্ধান্ত নেয় না... সে অন্যের সিদ্ধান্তে বেঁচে থাকে। সূর্য বারোটি ঘরে বসে থাকে না... সে তোমার মনকে বারোবার পরীক্ষা করে। প্রথম ঘর সূর্য জিজ্ঞাসা করে— যদি তোমার নাম, চেহারা, এবং পরিচয় কেড়ে নেওয়া হয়... তাহলে তুমি কে? এখান থেকেই আত্মবিশ্বাসের জন্ম হয়। দ্বিতীয় ঘর সে জিজ্ঞাসা করে— তোমার কথা কি মানুষকে আলোকিত করে... নাকি আঘাত করে? কারণ মানুষ প্রথমে তার নিজের কথা দিয়েই নিজের ভাগ্য লেখে। তৃতীয় ঘর সে বলে— ভয়ের শেষ নেই। কিন্তু ভয় নিয়েও কি তুমি এগিয়ে যেতে পারবে? এটাই সাহস। চতুর্থ ভাব তিনি নম্রভাবে জিজ্ঞাসা করেন, "তুমি কি ঘরে ফিরছো... নাকি কেবল ঘরে প্রবেশ করছো?" কত মানুষের সবকিছু আছে... কিন্তু মনের শান্তি নেই? পঞ্চম ভাব সূর্য এখানে জিজ্ঞাসা করে, "তুমি কি জ্ঞান সঞ্চয় করছো... নাকি নিজেকেই পরিবর্তন করছো?" যে জ্ঞান তোমার অহংকার বাড়িয়ে তোলে... সেটাই অজ্ঞতা। ষষ্ঠ ভাব সূর্য শত্রু পাঠায় না। তিনি এমন বাহন পাঠান যা তোমার ভেতরের লুকানো শক্তিকে জাগিয়ে তোলে। সপ্তম ভাব প্রতিটি সম্পর্কই একটি আয়না। যাকে তুমি ভালোবাসো... বাস্তবে, তুমি তার মধ্যে তোমার অসম্পূর্ণ সত্তাকেই খুঁজে পাও। অষ্টম ভাব সূর্য জিজ্ঞাসা করে, "তুমি কি সত্যিই তোমার জীবন যাপন করেছো?" এই প্রশ্নটিই একজন মানুষকে রূপান্তরিত করে। নবম ভাব ধর্ম তা নয়... যা তুমি বিশ্বাস করো। ধর্ম হলো... যা তোমাকে ভেতর থেকে রূপান্তরিত করে। দশম ভাব সাফল্যের কোলাহল জোরালো। কিন্তু আত্মার কণ্ঠস্বর... সর্বদাই ক্ষীণ। সূর্য জিজ্ঞাসা করে, তুমি কার কথা শুনছো? একাদশ ভাব ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। কিন্তু শূন্যতা পূরণ হয় না। কেন? কারণ আত্মার কোনো জিনিসের প্রয়োজন নেই... এর প্রয়োজন অর্থ। দ্বাদশ ভাব এখানে সূর্য চূড়ান্ত প্রশ্নটি করে— যদি সারা বিশ্ব তোমাকে ভুলে যায়... তুমি কি নিজেকে মনে রাখতে পারবে? লোকেরা মনে করে... দুর্বল সূর্যের অর্থ কেবল বাবার থেকে দূরত্ব, সরকারি সমস্যা, বা সম্মানের অভাব। না। দুর্বল সূর্যের সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো একজন ব্যক্তি নিজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। এবং শক্তিশালী সূর্যের সবচেয়ে বড় সুবিধা রাজযোগ নয়... এটি আত্মযোগ। যেদিন তোমার ভেতরের সূর্য জেগে উঠবে... সেদিন তোমাকে আর কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হবে না— "আমি কেমন আছি?" কারণ সেই দিন, প্রথমবারের মতো... তুমি নিজেকে চিনবে।

Comments

Thank you visit again

10 mohabidha

AnnapurnaYojana Problem solv

Inportent gov app