Coming us...

Legal advisor

High Court কী ধরনের মামলায় হস্তক্ষেপ করে? বিস্তারিত জানতে...অনেকেই মনে করেন, যে কোনো সমস্যার সমাধান সরাসরি High Court থেকেই পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে High Court প্রতিটি মামলায় হস্তক্ষেপ করে না। ভারতের প্রতিটি High Court সংবিধান এবং বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিচারিক ক্ষমতা প্রাপ্ত। High Court শুধুমাত্র আপিল আদালত নয়, এটি একটি সাংবিধানিক আদালতও। যখন কোনো ব্যক্তি আইনগত বা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, নিম্ন আদালত আইনগত ত্রুটি করে, অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষ বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন High Court প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী High Court মৌলিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনগত অধিকার রক্ষার জন্য Writ Petition গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া ২২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী High Court তার অধীনস্থ সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যেসব ধরনের মামলায় High Court সাধারণত হস্তক্ষেপ করে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে যদি সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তাহলে High Court Writ Petition গ্রহণ করে উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে। সরকারি কর্তৃপক্ষের বেআইনি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি দপ্তর, Municipality, Panchayat, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় বা আইন দ্বারা গঠিত সংস্থা যদি আইনবিরোধী, স্বেচ্ছাচারী বা ক্ষমতার অপব্যবহারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে High Court সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা পরীক্ষা করতে পারে। নিম্ন আদালতের আদেশে আইনগত ত্রুটি থাকলে যদি কোনো নিম্ন আদালত আইন প্রয়োগে গুরুতর ভুল করে, বিচারিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে অথবা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন করে, তাহলে High Court আপিল, রিভিশন বা সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ফৌজদারি মামলায় জামিন, আগাম জামিন, এফআইআর বাতিলের আবেদন, ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিলের আবেদন, দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি বিষয়ে আইন অনুযায়ী High Court হস্তক্ষেপ করতে পারে। দেওয়ানি মামলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, চুক্তি, উত্তরাধিকার, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ঘোষণামূলক মামলা, পারিবারিক বিরোধ এবং অন্যান্য দেওয়ানি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী High Court-এ আপিল বা অন্যান্য প্রতিকার চাওয়া যায়। পারিবারিক মামলায় বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের হেফাজত, ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার এবং পারিবারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী High Court-এ প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। ভূমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় জমি অধিগ্রহণ, মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন, সরকারি জমি, ভূমি সংস্কার, রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত বিরোধ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে High Court হস্তক্ষেপ করতে পারে। সার্ভিস বা চাকরি সংক্রান্ত মামলায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বরখাস্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, পেনশন এবং অন্যান্য সার্ভিস সংক্রান্ত বিরোধে আইন অনুযায়ী High Court-এর শরণাপন্ন হওয়া যায়। ট্রাইব্যুনালের আদেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল যদি আইনগত সীমা অতিক্রম করে বা বিচারিক ত্রুটি করে, তাহলে High Court তাদের আদেশ বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারে।। যেখানে আইন অনুযায়ী কার্যকর বিকল্প প্রতিকার যেমন আপিল বা রিভিশনের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে High Court অনেক ক্ষেত্রে প্রথমেই হস্তক্ষেপ করে না। তবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, বেআইনি আটক, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের গুরুতর লঙ্ঘন অথবা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে High Court সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। High Court-এর প্রধান দায়িত্ব হলো সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা। তবে প্রতিটি মামলার প্রকৃতি, প্রযোজ্য আইন এবং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে High Court হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা আদালত নিজস্ব বিচারিক বিবেচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করে। Legal Awarness/ s haldar barister.

Comments

Thank you visit again

10 mohabidha

AnnapurnaYojana Problem solv

Inportent gov app